আসুন, মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে জানি

September 29, 2017 0 By armletbd

Mental-Health-1st-Aidআপনি কেমন আছে, সেটা বুঝবেন কীভাবে? এ প্রশ্নের উত্তর সুন্দরভাবেই পাওয়া যাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এডুকেশনাল এন্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগের শিক্ষক আজহারুল ইসলামের মনোসন্ধি বইয়ে। পাঠকের সুবিধার জন্য লেখকের অনুমতিক্রমে হুবুহু কিছু অংশ তুলে ধরা হলো-

আমি যেহেতু মানুষের আচরণ নিয়ে কাজ করি, সেহেতু আমি প্রায়ই আগ্রহ নিয়েই অন্যদের খেয়াল করতে চেষ্টা করি। কীভাবে তারা চলে, তাদের দৈনিক কর্মপরিকল্পনাই বা কী, তাদের চিন্তাভাবনা, অনুভূতি ও আচরণ ইত্যাদি। কমবেশি সমান সুযোগ সুবিধার মাঝে বেঁচে থেকেও একজনের জীবন অন্যজনের থেকে আলাদা হয়। স্বপ্নের মতো না হলেও কীভাবে স্বাচ্ছন্দে জীবন যাপন করতে পারি- এ প্রশ্নগুলো আমাদের মাথায় প্রায় সবসময়ই থাকে, New Balance Baratas তাই না?। জীবনে কোন পরিবর্তন আনতে হলে সবার আগে জানতে হবে আমি এখন কেমন আছি? নিজের বর্তমান অবস্থা বুঝার জন্য তিনটা দিকের প্রতি মনোযোগী হওয়া দরকার। ক) আপনার শরীরের আবস্থা কেমন? খ)আপনার মানসিক অবস্থা কেমন?, আপনার পরিবার ও চারপাশের লোকজনের সাথে আপনার বর্তমান সম্পর্ক কেমন যাচ্ছে? গ) আপনার কাজকর্মের অবস্থা কী- আগের মতই, আগের চেয়ে ভালো নাকি খারাপ? আমরা শারীরিক, মানসিক, সামাজিক সম্পর্ক ও কর্মক্ষমতা নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করার মাধ্যমে আমাদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করতে পারি।
প্রিয় পাঠক, অনুগ্রহ করে একটু সময় নিয়ে উল্লেখিত প্রশ্ন তিনটির উত্তর সততার সাথে ভাবুন। এবার বলুন, আপনার বর্তমান অবস্থা কী? সব মিলিয়ে উত্তরে আপনি কী বলবেন, বাহ!, চমৎকার!, বেশ ভালো!! আর যদি বর্তমান অবস্থা নিয়ে আপনার মনে কোন প্রশ্ন থাকে, তাহলে আপনার বর্তমান অবস্থার পরিবর্তনের জন্য আপনাকে নির্দেশ দিচ্ছে। আপনি যেমন আছেন, যেভাবে আছেন, তাতে আপনি সন্তুষ্ট নন। আপনি যা চাচ্ছেন তা পেতে হলে আপনাকে নিজের মধ্যে কিছুটা পরিবর্তন আনতে হবে। আপনার যদি পরিবর্তনের উপলব্ধিটা জন্মায় তাহলে-আমি আপনাকে ধন্যবাদ জানাই, এই জন্য যে আপনি আপনার মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন। আসুন আমরা মানসিক স্বাস্থ্যের সাথে পরিচিত হই।


মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্বঃ গবেষনায় দেখা গেছে, উচ্চ মাত্রায় ভাল মানসিক স্বাস্থ্য শিক্ষণ , Air Jordan 4 সৃজনশীলতা এবং উৎপাদনশীলতা, অধিক গ্রহনযোগ্য আচরণ ও ইতিবাচক সামাজিক সম্পর্ক, শারীরিক সুস্থতা ও গড় আয়ু বৃদ্ধির সাথে সম্পর্কিত। অন্যদিকে মানসিক অসুস্থতা মানসিক পীড়ন বৃদ্ধি বাড়াতে পারে, দৈনন্দিন কাজকর্ম ও সম্পর্কের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, দুর্বল স্বাস্থ্য এবং অকাল মৃত্যুর কারনের সাথে জড়িত। মনে রাখ দরকার, মানসিক স্বাস্থ্য একটি জটিল বিষয়। একটি বিষয় এমন যে, ব্যক্তি মানসিক সমস্যায় ভুগছে না তার মানে এই নয় যে, তার মানসিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছ্ ে। একইভাবে, ব্যক্তি জীবনের বিভিন্ন দিকে ভাল লাগাচে এমন অবস্থায় ও মানসিকরোগ নির্নয় করা যেতে পারে। মানসিক স্বাস্থ্য মানে শুধু মানসিক রোগ মুক্ত থাকাই নয় বরং অবহিতিমূলক বা জ্ঞানমূলক, আবেগীয় ও সামজিকভাবে সুস্থ্যতা- কিভাবে আমরা চিন্AL25-HAPPINESS A Danish study suggests that depression and unhappiness can inspire creativity. It appears that the most lasting inspiration for artists may come from the most difficult moments. Editable vector silhouette of a man sitting with his head in his hand with background made using a gradient mesh Uploaded by: Herron, Shaunতা করি, অনুভব করি, আমাদের সম্পর্ক উননয়ন করি সেটা। মানসিক স্বাস্থ্য হলো মানসিক কার্যাবলীর সফলভাবে সম্পাদন যার ফলে উৎপাদনমূলক কাজ করা যায়, অন্যদের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখা যায়, fjallraven kanken outlet যেকোন পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে চলা ও দুর্দশা মেকাবেলা করা যায়। সামগ্রিকভাবে মানসিক অসুস্থ্যতার মানে হচ্ছে, মানসিক রোগ হিসেবে নির্নয় করা যায এমন মানসিক অবস্থা যার ফলে চিন্তা, মনমেজাজ ও আচরণে পরির্তন দেখা দেয় ফলে ব্যক্তি নিজে ও তার চারপাশের লোকজন কষ্ট পায়। মানসিক স্বাস্থ্যের নির্দেশকঃ মানসিক রোগ মুক্ত থাকাই শুধু নয়, বরং মানসিক স্বাস্থ্য, ব্যক্তি নিজের সম্পর্কে কেমনবোধ করে এবং তার জীবনের ঘটনাগুলোর সাথে কিভাবে মানিয়ে চলে সেগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করে। তারা নিজের সম্পর্কে ভাল অনুভব করে, ভয়-রাগ-ভালবাসা-হিংসা-পাপ বা আতঙ্ক ইত্যাদি অনুভ’তিগুলি তার নিয়ন্ত্রণে থাকে। আবেগ দ্বারা অতিরিক্ত বিহব্বল হয়ে পড়ে না, অন্যদের সাথে সম্পর্ক তৈরির সময় সহজ বোধ করে. সন্তোসজনক সামাজিক সম্পর্ক তৈরি করতে পারে এবং তা দীর্ঘস্থায়ী ও কার্যকর হয়, রসবোধ সম্পন্ন হয় এবং তারা নিজেরা হাসতে পারে এবং অন্যদের হাসাতে পারে, তারা নিজেকে ও অন্যদেরকে শ্রদ্ধা ও সম্মান করে, আত্ম-সমামানবোধ অটুট থাকে, জীবনের দুর্দশাগুলিও ভিভিন্ন পরিস্থিতির সাথে খাপখাইয়ে নিতে পারে, জীবনের চাহিদাগুলি তারা মেটাতে পারে এবং যেকোন সমস্যা আসলে তা মোকাবেলা করতে পারে, নিজেই নিজের ব্যাপারে সিধান্ত নিতে পারে, সম্ভক হলে তারা তাদের পরিবেশে তৈরি করে নেয় এবং প্রয়োজনে এটার সাথে মানিয়ে চলে। নিজেকে সমাজের কার্যকরী অংশমনে করে এবং বিপদের সময় নিস্ক্রেয় না থেকে তা মোকাবেলার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নেয়।এরা জীবনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব রাখে , এরা দায়িত্ব নিয়ে কাজ করে এবং ব্যক্তিগত মও সামাজিক সম্পর্কের প্রতিও দায়িত্বশীল হয়।যৌনতার প্রতি তাদের আগ্রহ স্বাভাবিক থাকে এবং কেবলমাত্র সমাজ স্বীকৃত উপায়েই তা উপভোগ করে। মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার কিছু সাধারণ লক্ষণঃ অতিরিক্ত অস্থিরতা, কাজের প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়া, দুশ্চিন্তা, ঘুমের সমস্যা, ভয় পাওয়া, পাপ বা আপরাধবোধ, নিজেকে ছোট মনে করা, হতাশ অনুভব করা, বিষন্নতা, জীবনে ব্যর্থ মনে করা, আত্মহত্যার চিন্তা করা, যৌনতা সংক্রান্ত সমস্যা, বুকের মধ্যে চাপ অনুভব করা, ক্ষুধা মন্দা, শারীরিক দুর্বলতা,বুক ধরফর করা, ক্লান্তি, ব্যাক পেইন, বুক ব্যাথা, nike tn 2017 femme হজমের সমস্যা, মাথা ব্যথা, গাঁ ঘামা, মুখ শুকিয়ে আসা, নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট অনুভব করা, হাত-পা কাঁপা , ওজন হ্রাস/বৃদ্ধি, মাথা ঘোরা ইত্যাদি। এই লক্ষণগুলির মধ্যে এক বা একাধিক সমস্যা দেখা দেয়া স্বত্বেও ব্যক্তি যদি মানসিক স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ না করে তহিলে দিনদিন গুরুতর মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার দিকে চলে যায়। ফলে- বয়স্ক ও তরুন ও কিশোর বিশোরীদের মধ্যে- চিন্তা ভাবনায় বিভ্রান্তি, দীর্ঘ মেয়াদী বিষন্নতা (মনখারাপ, খিটখিটে মেজাজ), নিজেকে খুব বোশ বড়/ছোট মনে হওয়া, অতিরিক্ত ভয়, দশ্চিন্তা ও উদ্বেগ, সামাজ বিমুখতা, খাদ্যাভাসে ও ঘুমের ক্ষেত্রে হঠাৎ নাটকীয় পরিবর্তন, অতিরিক্ত রাগর অনুভুতি, অদ্ভুত / অবামÍব চিন্তা (ডেলিউশন), হ্যালিুসিনেশন-(অস্তীত্বহীন কোন কিছু দেখা , কথা শোনা, Zapatillas Asics Gel Lyte 5 স্বাদ, গন্ধ কিংবা স্পর্শ অনুভব করা),দৈনন্দিন কাজ কর্মে অক্ষমতা ও সমস্যা সমাধানে আপারগতা, আত্মহত্যা কিংবা অন্য কাউকে মেরে ফেলার চিন্তা, মাদকদ্রব্য সেবন ও নানা রকম শারীরিক অসুস্থতা। বয়সন্ধিকালের ছেলেমেয়েদেরে মধ্যে- মাদকদ্রব্য অপব্যবহার, সমস্যা সমাধানে ও দৈন্দিন কাযসম্পাদনে অক্ষমতা, ঘুম ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন, শারীরিক রোগ ব্যাধি সম্পর্কে অতিরিক্ত অভিযোগ/ উৎকণ্ঠা, বাড়ি ওবিদ্যালয়ের দায়িত্বগুলি পালনের ক্ষেত্রে সমস্যা/পরিবর্তন, কর্তৃপক্ষের প্রতি অবাধ্যতা, new balance 1600 online store স্কুল/কর্মস্থল থেকেে পালোনো, চুরি করা ইত্যাদি, তীব্র মাত্রায় ভয়, দীঘৃ মেয়াদী নেতিবাচক মেজাজ, প্রায়ই খাবার খেতে না চাওয়া, মরে যাবার চিন্তা করা, অতি মাত্রায় রাগ দেখানো। ছোট ছেলেমেয়েদের ক্ষেত্রে- বিদ্যালয়ে তার কর্মদক্ষতা ও পরিবর্তন, আনেক পরিশ্রম করার পরও ভাল ফলাফল করতে না পারা, খাদ্যাভ্যাসও ঘুমের ক্ষেত্রে পরিবর্তন, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা ও ভয়, প্রায়ই দুঃস্বপ্ন দেখা, অতির্ক্তি রাগ ও অবাধ্য হওয়া, ঘন ঘন সকুল খেকে পালানো, ও বদমেজাজ প্রদর্শন। সামজিক আপবাদের ভয়ে অনেক মানুষই মানসিক স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ কতে চায় না। আমাদের সমাজের মানুষ শরীরের ব্যাপারের যতটা সচেতন মনের ব্যাপারে ততটা সচেতন নয় এবং মাসনসিক স্বাস্থ্য সেবার শারীরিক স্বাস্থ্য সেবা থেকে আলাদা করে দেখে। যদি কারো হাত কিংবা পা ভেঙ্গে যায়, বুকে ব্যাথা করে তখন তারা ডাক্তারের কাছে যায়, প্রেসক্রিপশন করে আনার জন্য।কিন্তু, যখন তাদের বিষন্নতা দেখা দেয়, chaussure new balance femme 2016 অতিরিক্ত ভয় ও উদ্বগ কাজ করে, কিংবা মনোক্রিয় দ্রব্য (মাদকদ্রব্য) ব্যবহারে নির্ভরশীল হয়ে যায়, তখন তারা সেবা নিতে লজ্জা পায়।। পেশাগত মানসিক স্বাস্থ্য সেবা তাদের সমস্যা হ্রাস করতে সহায়তা করে কিন্তু দুভার্গবশতঃ বলতে হয় আমাদের সমাজের মানুষ মানসিক স্বাস্থ্য সেবা গ্রহন করে না। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের তথ্য মতে, বাংলাদেশে প্রায় মানুষ কোন না কোনভাবে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছে। এর মধ্যে ১৮.০৪ % শিশু, ১৬.০১% বয়স্ক ব্যক্তি। পুরুষের তুলনায় নারীরা বেশি মানসিক সমস্যায় আক্্রান্ত। ১৬ কোটি মানুষের এই বাংলাদেশে ২০০জনের সামান্য কিছু বেশি সংখ্যক মানসিক রোগের ডাক্তার রয়েছেন, প্রায় ৫০ জন ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ও সামন্য কিছু প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত সাইকোথেরাপিস্ট ,মনোবিজ্ঞানী ও কাউন্সেলর মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করছেন। মানসিক রোগের যথাযথ চিকিৎসার জন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, nike tn pas cher দক্ষ সাইকিয়াট্রিক নার্স, চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানী, সাইকোথেরাপিস্ট, অকুপেশনাল থেরাপিস্ট , স্যোশাল ওয়ার্কার- এদের কাজের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন। কিন্তু বাংলাদেশে প্রয়োজনীয় জনবল নেই। এ ব্যাপারে সরকারি ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে মানসিক স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের প্রয়োজন ীয়তা মানসিক স্বাস্থ্যসেবা- ক্স মনোবৈজ্ঞানিক চিকিৎসা কৌশল বা সাইকোথেরাপী/ চিকিৎসা মনোবৈজ্ঞানিক সেবা, ক্স কাউন্সেলিং ক্স ঔষধপত্র মনে রাখতে হবে- শারীরিক ও মানসিক অবস্থা পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। মনের আবেগজনিত অবস্থা সর্বদাই শরীরের উপর প্রভাব ফেলে। ইতিবাচক আবেগীয় অবস্থা যেমন শরীরকে উৎফুল্ল রাখে তেমনি নেতিবাচক অবস্থা শারীরিক আসাড়তা তৈরি করে।যে কোন শারীরিক অবস্থার মতই মানসিক অবস্থার ও পিরবর্তন ঘটে। এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। মানসিক সমস্যা কে স্বীকার করা/স্বীকৃতিদেয়া এবং পেশাজীবীদের সাহায্য নেয়া কোন দুর্বলতা নয়, বরং এই ইতিবাচক পদক্ষেপগুলি মানসিক স্বাস্থ্য সচেতন আত্ম প্রত্যয়ী ব্যক্তিত্বের পরিচায়ক। মানসিক স্বাস্থ্যকর্মীগণ ও সেবাদানকরী প্রতিষ্ঠান সেবা গ্রহণকরাীর পরিচয় ও সমস্ত তথ্য সমস্পূর্ণ গেপান রাখেন।

===================================== সম্পাদনায় : মোঃ আব্দুর রাজ্জাক (মনোবিজ্ঞানী ও প্রশিক্ষণার্থী সাইকোথেরাপিস্ট) কাউন্সেলর আইআরএসওপি প্রকল্প আরডিআরএস বালাদেশ,

Comments

comments